নিউজ ডেস্ক- নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখনই কেতুগ্রামে কুপিয়ে খুন করা হল বিজেপি কর্মীকে। নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে এলাকায় চলছিল মিছিলের প্রস্তুতি।সেই সময় বিজেপির পতাকা বাঁধতে গিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে খুন হলেন কেতুগ্রামের বিজেপি কর্মী সুশীল মন্ডল (৫২)। অভিযোগের তির, তৃণমূলের দিকে।

পেশায় খেতমজুর সুশীলবাবু কেতুগ্রাম ১-এর পাণ্ডুগ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার কেতুগ্রাম থানায় সুশীলবাবুর স্ত্রী অপর্ণা মণ্ডল অভিযোগ করে জানান, বেলা ১১টা নাগাদ তাঁর স্বামী বাড়ির অদূরে গলির সামনে একাই বিজেপির পতাকা বাঁধছিলেন। অভিযোগ, আচমকা লাগোয়া গ্রাম মালুনের বাসিন্দা লক্ষ্মণ মণ্ডল, পাণ্ডুগ্রামের জগন্নাথ ঘোষ ও রাজকুমার ঘোষ ছুরি হাতে সুশীলবাবুর বুকে কোপাতে থাকে। নিহতের স্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘রাজকুমার আমার স্বামীকে ‘বিজেপির বড় নেতা হয়েছিস। তোকে শেষ করে দেব’ বলতে বলতে কোপাতে থাকে।’’ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময়ে এলাকায় তেমন লোকজন ছিল না। গলির সামনে একটি দোকান থাকলেও, তা তখন বন্ধ ছিল।
সুশীলবাবুর চিৎকারে জড়ো হন গ্রামবাসীর একাংশ ও তাঁর স্ত্রী। ততক্ষণে ছুটে চম্পট দেয় অভিযুক্তেরা, জানান অপর্ণাদেবী। সুশীলবাবুকে কেতুগ্রাম ২ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান।
এই ঘটনার পরেই তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পূর্ব বর্ধমানের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক তথা দলের তরফে কেতুগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অনিল দত্তের দাবি, ‘‘সুশীলবাবু প্রায় ১৫ বছর ধরে আমাদের কর্মী। অতীতেও তাঁকে তৃণমূল নানা ভাবে হেনস্থা করেছে।’’ নিহতের স্ত্রী জানান, ভোটের আগে স্বামীর বিরুদ্ধে তৃণমূল তাদের দলীয় পতাকা ছেঁড়ার ‘মিথ্যা’ অভিযোগ করে। এলাকার রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা যায়, সুশীলবাবুর গ্রামে চারটি বুথ রয়েছে। তার দু’টিতে তৃণমূল ও দু’টিতে বিজেপি লিড পেয়েছে। আর পাণ্ডুগ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তৃণমূলের মোট লিড মাত্র ৬৯ ভোটের। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এলাকায় দলের এই ভাল ফলের অন্যতম কারিগর ছিলেন সুশীলবাবু। বিজেপির কেতুগ্রাম ১ মণ্ডল সভাপতি বুদ্ধদেব রায়ের কথায়, ‘‘এটা যে রাজনৈতিক খুন, সেটা আশা করি এ বার স্বীকার করবে পুলিশ-প্রশাসন।’’ যদিও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈকত ঘোষের কথায়, ‘‘প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, জমির ফসল নষ্টের জেরে বিবাদ হয়। তার জেরে এই ঘটনা।’’
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তেরা পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here