নিউজ ডেস্ক – নীল সাদার বদলে সবুজ হলুদ।রঙ বদল রবীন্দ্র সরোবরের। নীল-সাদার পরিবর্তে সেখানে বাগান ঘিরতে দেওয়া হল সবুজ–হলুদ রঙের বেড়া। রঙ বদলের কি অন্য কোনও কারণ আছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরে ফিরে উঠে আসছে। বিশেষ করে রাজ্য রাজনীতিতে যখন দল বদলের হিড়িক, তখন এই রঙ বদলের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই চলে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বাম আমল বদল হওয়ার পরে স্থাপত্য থেকে রাস্তার পেভার ব্লক, বাতিস্তম্ভ থেকে ভূগর্ভস্থ পথের গেট— সবেতেই নীল-সাদা রঙ চড়িয়েছিল তৃণমূল সরকার। প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, ওই রঙ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিয়। গত লোকসভা নির্বাচনের পরে রঙ নির্বাচনেও কি সতর্ক হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? উঠছে প্রশ্ন।
কেএমডিএ কর্তৃপক্ষের যুক্তি, সরোবর চত্বরের ধারে যে বাগান তৈরি করা হচ্ছে তা ঘিরতেই বাঁশের বেড়ার প্রয়োজন। কিন্তু বাঁশের বেড়াকে টেকসই করতেই সেখানে রঙ দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু তৃণমূলের সেই নীল সাদা রঙ ন্য কেন? বিশেষ করে সরোবর চত্বরে সব জায়গায় সরকারি নীতি মেনে যেখানে নীল-সাদা রঙ দেওয়া হচ্ছে, সেখানে হঠাৎ করেই এই সবুজ হলুদ রঙ কি বেমানান নয়?
কর্তৃপক্ষ অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্যভাবে। তাঁদের বক্তব্য, সবুজ রঙ কচি পাতার প্রতীক। অন্য দিকে, যে সমস্ত গাছের পাতা নষ্ট হয়ে যায় তার রঙ হলুদ। সেই কারণেই বেড়াতে এই দু’টি রঙ লাগানোর উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই ভাবে, অন্ধকারে হলুদ রঙ জ্বলজ্বল করে। সরোবর চত্বরের ভিতরের রাস্তায় অন্ধকার হয়ে গেলে যাতে বাগান চিনতে অসুবিধা না হয়, সেই কারণেই এই ধরনের রঙের কথা ভাবা হয়েছে। সরকারি ভাবে তা গৃহীতও হয়েছে। তাদের কথায়, সরোবরে আজ পর্যন্ত যে সমস্ত বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে সেখানে নীল-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। সরোবর চত্বরের অন্যান্য ফাঁকা জায়গা, যা উদ্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলি ঘিরতে যে জাল দেওয়া হয়েছে সেখানেও নীল-সাদা রঙ রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ‘জগিং ট্র্যাক’থেকে ওই উদ্যানগুলি কিছুটা দূরে থাকায় ভ্রমণকারীদের অসুবিধা হবে না। সেই কারণে সেখানে রীতি মেনেই ‘সরকার স্বীকৃত’ নীল-সাদা রঙকেই বেছে নিয়েছেন তারা। তবু্ও যুক্তি যাই হোক এই রঙ পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জমে উঠেছে সব মহলেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here