নিউজ ডেস্ক- সময়টা প্রায় তিন দশক আগের, শেখ হাসিনা তখন বাংলাদেশের বিরোধী নেত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বেরিয়েছিল আওয়ামি লিগের সরকার-বিরোধী মিছিল। সেসময় অতর্কিতে বিরোধী নেত্রীর কনভয় লক্ষ্য করে হামলা হয়। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলিবৃষ্টি হতে থাকে। হাসিনা প্রাণে বাঁচলেও, তাঁর দল আওয়ামি লিগের ২৪ কর্মী-সমর্থক প্রাণ হারায়। ১৯৮৮ সালের সেই ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের প্রাক্তন পাঁচ পুলিশ অফিসারকে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশের আদালত।


প্রায় তিন দশক আগের এই মামলায় চট্টগ্রামের আদালতের বিচারক এদিন দোষীদের শাস্তি ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে খবর, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ওই মামলায় রায়দানের আগে মোট ৫৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক মহম্মদ ইসমাইল হোসেন তাঁর রায়ে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের কথা বলেন।
এদিন রায়দানের সময় দোষী পাঁচ প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের মধ্যে চার জনই আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় দোষী পঞ্চম জন, প্রাক্তন পুলিশ ইনস্পেক্টর পালতক।


আদালত সূত্রে খবর, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি তত্‍‌কালীন বিরোধী নেত্রী, আওয়ামি লিগের সুপ্রিমো শেখ হাসিনার কনভয়ে এই হামলা হয়েছিল। সামরিক শাসক, একনায়ক এইচএম এরশাদের সরকারের বিরোধিতায় মিছিলে যোগ দিতে বন্দরশহরে যাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। সমর্থকেরা তাঁকে ঘিরে রাখায়, অল্পের জন্য রক্ষা পান তত্‍‌কালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু, তাঁর দলের ২৪ সমর্থক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।


এরশাদ ক্ষমতা থেকে সরার পর ১৯৯২ সালে আওয়ামি লিগ এই ঘটনায় মামলা দায়ের করে। ১৯৯৮ সালের ১৪ মে পুলিশ এই মামলায় ৪৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছিল। এর পর আদালত মামলাটি সিআইডির হাতে হস্তান্তর করে। পরের বছর, ১৯৯৯ সালের ১৪ অক্টোবর সিআইডি আট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনে। তার মধ্যে শুনানি চলাকালীনই বন্দর শহরের পুলিশ প্রধান মির্জা রাকিবুল হুদা-সহ তিন জন মারা যান।


কিন্তু, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মামলা চালুতে আগ্রহ দেখায়নি। ফলে, মামলাটি দীর্ঘদিন পরে ছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মামলার শুনানি শুরু হয়। যে কারণে রায়দানে এত বিলম্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here