নিউজ ডেস্ক- লকডাউনে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, থালা বাটি গয়না বেচেও ঘরে ফিরতে পারছেন না ক্যানসার আক্রান্ত। চরম পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের সুমিত্রা মজুমদার এবং তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত স্বামী সুকুমার।

ডাক্তার জবাব দিয়ে দিয়েছেন। হাতে আর বড়জোর ক’টা দিন। লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত স্বামী সুকুমারকে নিয়ে তাই বাংলার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ লাগোয়া উদয়পুরের বাড়িতেই ফিরে যেতে চেয়েছিলেন সুমিত্রা মজুমদার। নিজের ভিটেয় বসেই সর্বশক্তিমানের কাছে শেষরক্ষার প্রার্থনাটুকু করতে চেয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু আচমকা লকডাউনে তালগোল পাকিয়ে গেল সবকিছুই। চেন্নাইয়ের ভেলোর থেকে দিনাজপুরের উদয়পুর কমবেশি ২০০০ কিলোমিটার।অ্যাম্বুল্যান্সে সেই পথ পাড়ি দিতে নগদ ৫০ হাজার টাকা জোগাড়ের জন্য থালা-বাটি থেকে গয়না, বেচতে কিছুই বাদ রাখেননি সুমিত্রা। কিন্তু সেই টাকা যখন হাতে এল, অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া চড়ে ততদিনে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার। চিকিৎসার পিছনেই খসে গিয়েছে কাঠমিস্ত্রি সুকুমারের যাবতীয় সম্বল। বাড়ি ফেরার লাখ টাকা আর জোগাবে কে! অসহায় সুমিত্রা তাই এখন অচেনা তল্লাটে মুমূর্ষু স্বামীকে আঁকড়ে শেষের সেই ভয়ংকর দিনের অপেক্ষায়।

তবে রায়গঞ্জের সুমিত্রা না পারুন, পেরেছেন খড়গপুরের রেলকর্মী রাজেশ ভার্মা। গলায় ক্যান্সারের ‘ফার্স্ট স্টেজে’র সংক্রমণে অসুস্থ ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে বুধবার রাতে তিনি ফিরেছেন খড়গপুরে। লকডাউনের মাঝেই ভেলোর থেকে ফিরতে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া বাবদ তাঁকেও গুণে দিতে হয়েছে নগদ এক লক্ষ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here