কালিয়াগঞ্জ- জীবন্ত শিশুকে মাটিতে পুঁতে তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধিলাভ করার চেষ্টায় ধৃতশিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক। গ্রেফতার শিশুর বাবাও।গুপ্তধন প্রাপ্তির লোভ দেখিয়ে শিশুর বাড়ির উঠোনেই গর্ত খুঁড়ে নাবালককে সমাধিস্ত করার চেষ্টা চলছিল।স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে অবশেষে উদ্ধার পায় সেই নাবালক। বুধবার রাতে কালিয়াগঞ্জ থানার ৭ নম্বর ভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের টুঙ্গল বিলপাড়া এলাকায় এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযাগের ভিত্তিতে ওই রাতেই কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ বাবা দিলীপ সরকার এবং পেশায় শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তথা তান্ত্রিক গলিচাঁদ বর্মনকে থানায় নিয়ে যায়।


স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে তান্ত্রিক গলিচাঁদ বর্মন তাঁর পাড়ার বাসিন্দা দিলিপ সরকারকে জানায় তিনি স্বপ্ন দেখেছেন তাঁর বাড়ির উঠোনে পূর্ব পুরুষেরা গুপ্তধন রেখেছে। সেই কথা শুনেই দিলীপ সরকার তাঁর প্রায় বছর দশেকের পুত্র চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র সাগরকে নিয়ে তান্ত্রিকের বাড়িতে যান। এরপর রাতের অন্ধকারে গলিচাঁদ তার বাড়িতে গর্ত খুঁড়তে শুরু করেন। এরপর ছেলে সাগরের মাপে গর্ত খুঁড়ে ফেলেন দিলিপ।

প্রতিবেশিরা দেখতে পান দিলীপ তাঁর ছেলেকে গর্তের মধ্যে নামিয়ে দিয়ে মন্ত্রচ্চারণ করছেন। বিষয়টা সন্দেহজনক হওয়ায় গ্রামবাসীরা কালিয়াগঞ্জ থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে। শিশুটির বাবা দিলীপ ও তান্ত্রিক গলিচাঁদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, গলিচাঁদের বাড়িতে একটা বড় গর্ত করা হয়,পাশে জ্বলছিল ধুপকাঠি।

সিঁদুরও পড়ে ছিল। শিশুটিকে গর্তে নামিয়ে চলছিল মন্ত্রচ্চারণ। এরপর লোকজন উৎসুক হয়ে এগিয়ে এলে ভয় পেয়ে যান গলিচাঁদ। বাচ্চাটিকে দ্রুত গর্ত থেকে তুলে নেয় এবং গর্ত ভরতে থাকে। এতে সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। সাগর জানায়, টাকার হান্ডি মাটির ভিতরে ছিল। সেটা ওঠানোর জন্য তাঁকে গর্তের মধ্যে নামানো হয়েছিল। তাঁর গলা পর্যন্ত গর্ত করা ছিল। পরে হান্ডিটা বুড়াবুড়ির মন্দিরের ভিতরে রাখা হয়।


বৃহস্পতিবার নাবালকের মা তিস্তা সরকার তাঁর স্বামী দিলিপ সরকার এবং তান্ত্রিক গলিচাঁদ বর্মনের বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দিলীপ সরকার তাঁদের জানিয়েছিল, সে মা কালির তন্ত্র শিখতে এসেছিল। দিলীপ এবং তান্ত্রিক শিশুটিকে মাটিতে ঠাকুরের সামনে পুঁতে ফেলতে চেয়েছিল। তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে না এলে বাঁচানো যেত না শিশুটিকে।


সাগরের মা তিস্তা সরকারের অভিযোগ, ওই রাতে তাঁর স্বামী দিলীপ সরকার পরিকল্পনামাফিক ছেলে সাগরকে তুলে নিয়ে যায় গলিচাঁদের বাড়িতে। মাটিতে গর্ত খুঁড়ে মেরে ফেলার জন্য ছেলেকে পুঁতে দিতে চেয়েছিল।স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ছেলেকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ সাগরের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেফতার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here