পান্না সেখ, মালদা- ১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নবনির্মিত বাঁধে বড় বড় ফাটল, তীব্র বেগে ঢুকে পড়ল জল।মাত্র একমাস আগেই তৈরি হয় এই বাঁধ।

চরম আতঙ্কে তিনটি ব্লকের কয়েকশো গ্রামের মানুষ। এদিকে টানা বৃষ্টিতে ফুলহর নদীর জল বাড়তে থাকায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।নদী বাঁধ মেরামতিতে দুর্নীতি আর মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের কারণে এই বিপত্তি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সোমবার সকাল থেকে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদা জেলার রতুয়া জুড়ে।চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে দেবীপুর,কাহালা, রতুয়া ও বাহারাল অঞ্চলে মানুষ। এমন অবস্থায় উদ্বেগে প্রশাসনও। আধিকারিকরা দফায় দফায় ছুটছেন এলাকায় ।

গত বছরে কাহালা অঞ্চলের সূর্যাপুর এলাকায় ফুলহারের দাপটে ভেঙে যায় প্রায় ৫০০ মিটার নদী বাঁধ। প্লাবিত হয় রতুয়া-১ ব্লকের দেবীপুর,কাহালা,বাহারাল অঞ্চল সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।গোটা বছর কাজ না করে সম্প্রতি মাসখানেক আগে থেকে মালদা জেলা প্রশাসনের তরফে এই এলাকার বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করা হয়।সেচ দপ্তরের তরফে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ মেরামতির পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছিল একটি রিং বাঁধ। বর্ষা শুরুর ঠিক আগেই জোরকদমে চলা সেই কাজ দিন কয়েক আগেই পরিদর্শন করেছেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র সহ প্রশাসনের কর্তারা।তবে গতকাল থেকে ফুলহারের জল ফুলে-ফেঁপে ওঠায় তছনছ করে হয়ে যায় বাঁধ মেরামতির কাজ। বর্তমানে সেই বাঁধ মেরামতির কাজ এখন তলিয়েছে নদীর গর্ভে।বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে রিংবাঁধে।জল সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করে দিয়েছে।আর এমন অবস্থায় আতঙ্কিত রতুয়ার মানুষ।বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে। তবে সকাল থেকে তৎপরতার সাথে আবার জল আটকাতে কাজ চালাচ্ছে সেচ দপ্তর।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,সুখা মরশুমের বদলে বর্ষার আগেই কাজ শুরু করেছে।আরে এই কাজ ঘিরে বিস্তর দুর্নীতি।নিম্নমানের কাজ করে মোটা টাকা আত্মসাতের ফলে সংকটের মুখে এখন রতুয়ার মানুষ। জল বাড়তে গত বছরের মতোই থাকলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যাবে এমন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয়রা।

এপ্রসঙ্গে জেলা সেচ দপ্তরের আধিকারিক বদরুদ্দীন শেখ জানান, নতুন মাটি থাকার কারণেই সমস্যা হয়েছে। দ্রুততার সাথে জল আটকাতে কাজ শুরু করা হয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।রিংবাঁধের জন্য ১ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকার করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে কাজ করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here