মালদা- বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রের এই নির্দেশে ইতিমধ্যেই শুধুমাত্র মালদায় ২০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি রপ্তানিকারকদের। সীমান্ত থেকে মালদা শহর পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার শুধু ট্রাকের লাইন, নষ্ট হচ্ছে পেঁয়াজ, পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। মাথায় হাত রপ্তানিকারক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের।


গত ১৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্র সরকার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে না। এবং ১৪ সেপ্টেম্বর থেকেই সেই নির্দেশ কার্যকর করা হবে। এই নির্দেশের পরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সড়ক পথ গুলি দিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা হয় এখানেই যে, নির্দেশ পাওয়ার দিনেই মাঝ রাস্তায় অসংখ্য ট্রাক আটকে দেওয়া হয়।যা ভর্তি ছিল পেঁয়াজে, যার বাংলাদেশে রপ্তানির এনওসি ছিল। নির্দেশিকা জারির পরে পেঁয়াজ সরানোর জন্যে কোনও সময় পায় নি রপ্তানিকারকরা।ফলে মাঝ রাস্তাতেই পচতে থাকে কোটি কোটি টাকার পেঁয়াজ।


মূলত, মালদার মহদিপুর সীমান্ত পথে সব থেকে বেশি পেঁয়াজ এবং পাথর রপ্তানি হয় বাংলাদেশ।নাসিক, পাঞ্জাব,কর্ণাটক তথা দক্ষিণ ভারত,উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে পেঁয়াজ ভর্তি শয়ে শয়ে ট্রাক নিয়মিত মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যায়। এরমধ্যে মালদা থেকেও বহু রপ্তানি কারক পেঁয়াজ পাঠান। কিন্তু এখন সব পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে কয়েক কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে। বহু ট্রাক এনে রাখা হয়েছে শহরের রেগুলাটেড মার্কেটের মধ্যে। লুঠপাট হচ্ছে পেঁয়াজ, কিংবা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পেঁয়াজ
রপ্তানি কারক তথা মহদিপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর প্রতিনিধি সমির ঘোষের অভিযোগ, চিন থেকে বিনা শুল্কে বাংলাদেশে বিভিন্ন সামগ্রী রপ্তানি করা হচ্ছে অথচ ভারত সরকার কোন সময় না দিয়েই হঠাৎ করে কাঁচামাল রপ্তানি বন্ধ করে দিচ্ছে। এরফলে বাংলাদেশে রপ্তানি বানিজ্যে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।পাশাপাশি শুধুমাত্র মালদা জেলাতেই ইতিমধ্যেই ক্ষতি হয়েছে ২০০ কোটি টাকার। ক্ষতিগ্রস্ত বহু ব্যবসায়ী। এমনকি বিপাকে পড়েছেন দূর দূর রাজ্য থেকে আসা ট্রাকচালক ও তাঁদের সহকর্মীরা।মাঝ পথে গাড়ি দাঁড়িয়ে, নেই খাওয়ার জায়গা। বিশ্রামের উপায়।পাশাপাশি নিরাপত্তার অভাব।লুটপাটের আশঙ্কা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here