নিউজ ডেস্ক- এ যেন সত্যিকারের মোগলি। সারাদিন জঙ্গলে থেকে ঘাস–পাতা কিংবা কলা খাওয়ার অভ্যেস।বাড়ির রান্না মুখেও তোলেন না। আর মা–বাবা ছাড়া অন্য কোনও মানুষ দেখলেই এক দৌড়ে জঙ্গলের ভিতর।

২১ বছর বয়স। কিন্তু আর পাঁচজন সাধারণ যুবকের মতো দেখতে নয়। তাঁদের মতো জীবনযাপনও নয়। বেশির ভাগ সময় কাটে জঙ্গলে। এটাই জাকার্তার এলির জীবনযাত্রা। ছোট থেকেই বিরল রোগে ভুগতে থাকা এলি যেন রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের গল্পের সেই ‘‌মোগলি’ । এলির স্বভাবও পুরোদস্তুর মোগলির মতোই।‌


সম্প্রতি খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন এলি। জানা গিয়েছে, তিনি তাঁর মা–বাবার ষষ্ঠ সন্তান। এর আগে পাঁচ সন্তান জন্মানোর পরই মারা গিয়েছিল। তাই এলি তাঁদের কাছে ভগবানের আশীর্বাদ স্বরূপ। কিন্তু এহেন সন্তানই ছোট থেকে বিরল রোগে আক্রান্ত। সভ্য সমাজ থেকেও তাঁকে বেশি টানে বন, জঙ্গল। আর তাই সারাদিন কেটে যায় বনে–বাদারে। ভাল লাগে না মায়ের হাতের রান্না। লতাপাতা, কলা, ফল খেয়েই দিন কেটে যায়।


একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে এলির মা জানান, ছোট থেকেই ছেলে বিরল রোগে আক্রান্ত। কথা বলতে পারে না। সাধারণ মানুষের মতো খাবার পছন্দ করে না। কলা খেতেই তাঁর ভাল লাগে। অন্য কিছুই পারে না। কেবল দৌড়তেই ভাল জানে। তিনি সাক্ষাৎকারে আরও বলেন যে, ”কোনও মানুষকেই পছন্দ করেন না এলি। কেউ ধারেকাছে ঘেঁষার চেষ্টা করলেই এক দৌড়ে বনের ভিতর। ওর পিছনে আমাকেও ছুটতে হয়। না হলে ছেলে কোনওদিন বাড়ি ফিরবে না।” মাঝেমধ্যে নাকি সপ্তাহে ২৩০ কিলোমিটারও দৌড়ে ফেলে এলি।
তবে অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দারা এলিকে যেমন ভালোবাসে,আবার এলির বয়সি বা তার চেয়ে অনেক ছোটোরা এলিকে বাঁদর বা অন্য কিছু বলে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপও করে। যে কারণেই এলি ছুটে ছুটে আবার জঙ্গলে চলে যায়।এমন অভিযোগও রয়েছে এলির মা বাবার। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here